লালসালু কোন ধরনের উপন্যাস?
-
ক
আঞ্চলিক
-
খ
সামাজিক
-
গ
ঐতিহাসিক
-
ঘ
আধ্যাত্মিক
উত্তর: B. সামাজিক
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু' একটি কালজয়ী সামাজিক সমস্যাধর্মী উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় ভণ্ডামি এবং সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে শোষণের চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মজিদ চরিত্রের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে আধিপত্য বিস্তার করা হয়। এটি মূলত বাঙালি মুসলিম সমাজের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক ও শোষণের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ সামাজিক প্রতিবাদ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১)
বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার, জীবনসন্ধানী ও সমাজ-সচেতন শিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি ব্যক্তিজীবন ও সমাজসমস্যার প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার, মূল্যবোধের বিপর্যয়, মানসিক স্খলন ও পতনের আলেখ্য উজ্জ্বলভাবে অঙ্কন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি প্রবাসে ইউনেস্কোতে কর্মরত থাকায় স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ার ক্ষেত্রে কাজ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৫ আগস্ট, ১৯২২ সালে চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। আদি নিবাস নোয়াখালী।
- তিনি 'Contemporary' নামে একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৫ সালে কলকাতার 'দৈনিক স্টেটসম্যান' পত্রিকার সহ-সম্পাদক পদে যোগদান করেন।
- ১৯৫৬ সালে সিডনী দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিডনীর ফরাসী দূতাবাসে কর্মরত অ্যান মারিকে বিবাহ করেন। অ্যান মারি ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রাখেন আজিজা মোসাম্মত নাসরিন। যদিও তিনি এ নামে পরিচিত হননি।
- তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬১), 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৫), 'একুশে পদক' (১৯৮৩- মরণোত্তর) পান।
- তিনি ১০ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন। প্যারিসের উপকণ্ঠে মদোঁ-স্যুর বেলভুতে তাকে সমাহিত করা হয়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ প্রকাশিত প্রথম গল্পের নাম 'হঠাৎ আলোর ঝলকানি': এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
তাঁর উপন্যাসসমূহঃ
'লালসালু' (১৯৪৮): এতে গ্রাম-বাংলায় ধর্ম নিয়ে একটি শ্রেণির ব্যক্তিস্বার্থ অর্জন ও নারী জাগরণের চিত্র ফুটে উঠেছে। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে ঢাকার 'কমরেড পাবলিশার্স' থেকে। এর প্রকাশক ছিলেন মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। ১৯৬০ সালে উর্দু ভাষায় 'Lal Shalu' নামে করাচি থেকে প্রকাশিত হয়। অনুবাদক ছিলেন কলিমুল্লাহ। ১৯৬১ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সহধর্মিণী অ্যান-মারি-থিবো L'arbre sans racines নামে ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন, যা প্যারিসের Editions du Seuil প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালে এর ইংরেজি অনুবাদ 'Tree without Roots' নামে লন্ডনের Chatto and Windus Ltd. এটি প্রকাশ করেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ নিজেই এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে এটি জার্মান, চেক, ইন্দোনেশীয় ও জাপানি ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। ২০০১ সালে উপন্যাসটি তানভীর মোকাম্মেল 'লালসালু' নামে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন। এতে মজিদ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ।
'চাঁদের অমাবস্যা' (১৯৬৪): আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের চেতনাগত জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি এ উপন্যাসের মূল বিষয়। এটি মনঃসমীক্ষণমূলক অস্তিত্ববাদী উপন্যাস। এক জ্যোৎস্না রাতে আরেফ আলী ঘর থেকে বের হয়ে দেখে বাঁশঝাড়ের ভেতর এক নগ্ন যুবতির লাশ পড়ে আছে। পাশে দণ্ডায়মান কাদের মিয়া (আরেফ আলী যে বাড়িতে আশ্রিত সেই বাড়ির মালিক)। কাদেরের সহযোগী হয়ে সে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। কিন্তু এ সত্য কথাটি সে বলতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। একদিকে আশ্রয় হারানোর ভয়, অন্যদিকে সত্য গোপনের যন্ত্রণা। অবশেষে নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে দাদা সাহেব ও আইন কর্তৃপক্ষের নিকট সব সত্য বলে দিয়ে নিজে অস্তিত্ববান হয়ে উঠে। আরেফ আলী চরিত্রের মাধ্যমে উপন্যাসটিতে অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন রূপায়িত হয়েছে। চরিত্র: আরেফ আলী, কাদের (দরবেশ), আলফাজ উদ্দিন (দাদা সাহেব)।
The Ugly Asian: এটি ইংরেজিতে রচিত। এটি শিবব্রত বর্মণ 'কদর্য এশীয়' (২০০৬) নামে অনুবাদ করেন।
'কাঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮): ধর্মের নামে আচার-সর্বস্বতা, বিজ্ঞানের নামে অদৃষ্টবাদিতা, বাস্তবতার নামে স্বপ্ন-কল্পনা ইত্যাদির বিরুদ্ধাচরণ, ব্যক্তির সামগ্রিক জীবনের সুখ-দুঃখ ইত্যাদির সার্থক রূপায়ণ এ উপন্যাস। এ মনঃসমীক্ষণমূলক উপন্যাসে ফুটে উঠেছে একদিকে মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনালেখ্য, অন্যদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনচিত্র। এটি চেতনাপ্রবাহ রীতিতে লেখা। বাংলা সাহিত্যে ওয়ালীউল্লাহ প্রথম চেতনাপ্রবাহ রীতির প্রয়োগ ঘটান।
How to cook beans: এটি ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস। এটি শিব্রত বর্মণ 'শিম কিভাবে রান্না করতে হয়' নামে অনুবাদ করেন।
তাঁর নাটকসমূহঃ
'বহিপীর' (১৯৬০): এ নাটকে ধর্মকে কিভাবে ভণ্ড বহিপীর নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগিয়েছে তাই ফুটে উঠেছে। চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, হাসেম।
'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪): এ নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরেছেন।
'তরঙ্গভঙ্গ' (১৯৬৫): অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত মানুষের অন্তর্গত আর্তনাদ শব্দরূপ পেয়েছে এ নাটকে। চরিত্র: আমেনা, মতলুব আলী।
'উজানে মৃত্যু' (১৯৬৬): আধুনিক সভ্যতার অন্তঃসারশূন্যতা, এর ক্লান্তিকর পথপরিক্রমা, নিরাশাবাদী ভাব কিন্তু সুখের জন্য অসীম প্রতীক্ষা, যা শেষ হবার নয়, এগুলোই এ নাটকের বিষয়বস্তু। এটি একটি অ্যাবসার্ড নাটক।
তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহঃ
'নয়নচারা' (১৯৫১): এটি তার প্রথম গল্পগ্রন্থ, যা ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত হয়।
'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' (১৯৬৫): এ গ্রন্থের বিখ্যাত গল্প 'একটি তুলসী গাছের কাহিনি'।
'গল্প সমগ্র' (১৯৭২)।
Related Question
View All"চাঁদের অমাবস্যা" গ্রন্থটির লেখক কে?
-
ক
শওকত ওসমান
-
খ
আবদুল কাদির
-
গ
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
-
ঘ
সৈয়দ মুজতবা আলী
জমিলা চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
-
ক
মৃত্যুকুমা
-
খ
পদ্মানদীর মারি
-
গ
লালসালু
-
ঘ
রাইফেল রোটি আওরাত
বাংলাদেশের সাহিত্যে কোন লেখকের রচনায় চেতনাপ্রবাহ রীতির প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়?
-
ক
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
-
খ
শওকত ওসমান
-
গ
মাহমুদুল হক
-
ঘ
রশীদ করিম
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
-
ক
কবর
-
খ
বহিপীর
-
গ
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
-
ঘ
ওরা কদম আলী
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসে কোন জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে?
-
ক
মার্কসবাদ
-
খ
বাস্তববাদ
-
গ
অস্তিত্ববাদ
-
ঘ
পরাবাস্তববাদ
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
-
ক
কবর
-
খ
বহিপীর
-
গ
ওরা কদম আলী
-
ঘ
লাল সালু
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন